অনেকে পেটের মেদ কমানোর জন্য খাওয়া দাওয়া একেবারে বাদ দিয়ে বসে থাকেন। এতে করে কিন্তু কোনো লাভই হচ্ছে না। বরং উল্টোটাই ঘটছে। সঠিকভাবে খাওয়া দাওয়া করেই কিন্তু পেটের মেদ দ্রুত কমিয়ে আনতে পারবেন। জানতে চান কীভাবে? চলুন শিখে নেয়া যাক দ্রুত পেটের মেদ কমাতে সহায়ক কিছু কার্যকর বিষয়।
*** প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন:
সবসময় একটি পানির বোতল সঙ্গে রাখুন এবং প্রতি ১৫ মিনিট পরপর অল্প করে পানি পান
করুন। যদি আপনি পুরুষ হন তাহলে ৩.৫ লিটার এবং নারী হলে ২.৫ লিটার পানি এভাবেপান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে করে এই গরমের দিনে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ পানীয় পানের প্রতি আগ্রহ কমে যাবে। এবং পেটের মেদ বিদেয় করতে পারবেন।
*** কতো ক্যালরি গ্রহণ করলেন তার হিসেব রাখুন:
ধরুন আপনার বয়স, দেহের উচ্চতা এবং ওজন অনুযায়ী আপনার দিনে ২,৪৫০ ক্যালরি প্রয়োজন রয়েছে। তাহলে ঘুমের সময় বাদ দিয়ে বাকি সময় ৩ ঘণ্টা পরপর খেলে আপনার দিনে ৬ বার খাওয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রতিবার আপনি ক্যালরি গ্রহন করবেন (২,৪৫০/৬= ৪০৮) ৪০৮ ক্যালরি। এভাবে ক্যালরি হিসেব করে খাওয়া আপনার পেটের মেদ দ্রুত কমাতে সহায়ক।
*** ৩ ঘণ্টা পরপর খাবার খান:
৩ বেলা খাবার খাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ভুলে যান। প্রতি ৩ ঘণ্টা পরপর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। অল্প পরিমাণে খাবেন যা আপনাকে ৩ ঘণ্টা এনার্জি সরবরাহ করবে। এতে করে আপনার পেটে মেদ জমার বিষয়টি ঘটবেই না। প্রতি ৩ ঘণ্টায় কিছু না কিছু খাচ্ছেন বলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চাহিদা মিটে যাবে। এবং আপনি স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকেই বেশি ঝুঁকবেন।
*** ভালো ফ্যাট গ্রহণ করুন, খারাপ ফ্যাট বাদ দিন:
পেটের মেদের জন্য বিশেষভাবে দায়ী অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার যার মধ্যে ভালো ফ্যাটের তুলনায় খারাপ ফ্যাট বেশি। ডুবো তেলে ভাজা খাবার, যেসকল খাবারে রয়েছে ট্রান্স ফ্যাট এবং হাইড্রোজেনেট ফ্যাট সেসকল খাবার একেবারেই খাওয়া বন্ধ করে দিন।এরচাইতে খাবারে রাখুন এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড, যেমন, ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এতে পেটে মেদ জমবে না।
*** প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট খাবার খান, প্রসেসড নয়:
প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট খাবারে শুধুই খারাপ ফ্যাট থাকে কিন্তু অপরদিকে একেবারে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট দেহের জন্য অনেক বেশি ভালো। কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে আপনি ওজন এবং পেটের মেদ কমাতে পারবেন না।
*** প্রতি পাউন্ড ওজনের জন্য ১ গ্রাম প্রোটিন খান:
প্রোটিন আমাদের দেহ গঠনে অনেক বেশি সহায়ক এবং এটি পেটে অনেকটা সময় থাকে বলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ঝামেলা থেকে আমাদের মুক্ত রাখে। আপনার ওজন যদি ১৪০ পাউন্ড হয় তাহলে আপনার দিনে ১৪০ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া উচিত। আর ৬ বার খাবারের প্রতিবার (১৪০/৬= ২৩.৩৩) ২৩.৩৩ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া উচিত।
বৈচিত্র্য জীবন বৈচিত্র্য জীবন
