Home / শিশুদের যত্ন / গর্ভপাত

গর্ভপাত

গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন সময়ে রক্তপাত হতে পারে। পুরো গর্ভাবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করলে প্রথম তিন মাস, মাঝের তিন মাস ও শেষের তিন মাসের যে কোন সময় রক্তক্ষরণ হতে পারে।
যদি কোনো কারণে গর্ভস্থ ভ্রূণ আটাশ সপ্তাহ বা সাত মাসের পূর্বে মাতৃজঠর বা জরায়ু থেকে বের হয়ে যায় তবে তাকেগর্ভপাত বা এ্যাবরশন বলে৷

কারণ
গর্ভপাতের কারণগুলোকে মোটামুটি দুভাগে ভাগ করা যায়-
১. ভ্রুণের অস্বাভাবিকতা বা ক্রমোজমের ত্রুটি
২. গর্ভবতী মায়ের শরীরের নানা ত্রুটির জন্য গর্ভপাতের আশংকা থাকে৷ যেমন-
* গর্ভবতীর যদি গর্ভাবস্থায় খুব জ্বর হয় এবং তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে উঠে যায়৷
* গর্ভবতীর যদি গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে যায়৷
* গর্ভবতীর যদি ডায়াবেটিস থাকে এবং তা যদি পূর্বে শনাক্ত করা না হয়ে থাকে এবং অনিয়ন্ত্রিত থাকে৷
* গর্ভবতীর যদি কিডনীর অসুখ (নেফ্রোটিক সিনড্রোম) থাকে৷
* গর্ভবতী যদি গর্ভাবস্থায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়৷
* গর্ভবতী যদি গর্ভাবস্থায় কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়৷
* থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে৷
* জরায়ুর টিউমার বা জরায়ুর গঠনগত কোনও ত্রুটি থাকলে৷
* জরায়ুতে গর্ভফুল বা প্ল্যাসেন্টা যদি খুব নিচে নেমে আসে তাহলেও বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে৷
* আগের গর্ভাবস্থা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত করানো হয়৷
* মায়ের শরীরে প্রোজেস্টেরোন হরমোন কম থাকার কারণে গর্ভপাত হতে পারে৷
* গর্ভবতী যদি অত্যধিক মদ্যপান বা ধূমপানে আসক্ত হন তবে গর্ভপাত হতে পারে৷
* গর্ভবতী যদি প্রবল মানসিক পীড়ণে থাকেন বা চরম শোক দুঃখ পান তাহলে গর্ভপাত হতে পারে৷
* গর্ভাবস্থায় পেটে আঘাত পেলে, অত্যধিক পরিশ্রম, বাস বা ট্রেনে অনেক দূরে যাতায়াত করলে গর্ভপাত হতে পারে৷

গর্ভপাতের শ্রেণীবিভাগ ও গর্ভপাতের লক্ষণ

থ্রেটেন্ড গর্ভপাত

* কয়েকমাস মাসিক (পিরিয়ড) বন্ধ থাকবে৷
* রক্তস্রাব অল্প সামান্য হতে পারে৷
* পেটের ব্যথা নাও থাকতে পারে, থাকলেও খুব অল্প, কোমর বা তলপেটে সামান্য ব্যথা থাকতে পারে৷
* প্রসবদ্বার দিয়ে ভ্রুণ, তার আস্তরণ ও ফুল বেরিয়ে আসবে না৷
* জরায়ুর মুখ বন্ধ থাকবে (ডাক্তার পরীক্ষা করে বুঝবেন)৷

অসম্পূর্ণ গর্ভপাত

* কয়েকমাস মাসিক (পিরিয়ড) বন্ধ থাকবে৷
* রক্তস্রাব অনেকদিন একইভাবে হতে পারে৷
* পেটে ব্যথা থাকতে পারে নাও পারে৷
* প্রসবদ্বার দিয়ে ভ্রূণ, তার আস্তরণ ও ফুল বেরিয়ে আসবে৷
* জরায়ুর মুখ খোলা থাকবে (ডাক্তার পরীক্ষা করে বুঝবেন)৷

জীবাণুদুষ্ট গর্ভপাত

* কয়েকমাস মাসিক (পিরিয়ড) বন্ধ থাকবে৷
* কট গন্ধযুক্ত রক্ত স্রাব হতে পারে৷
* প্রথমদিকে পেটে ব্যথা না হলেও পরে তলপেটে খুব ব্যথা হবে৷

* প্রসবদ্বার দিয়ে ভ্রূণ, তার আস্তরণ ও ফুল বেরিয়ে আসতেও পারে নাও পারে৷
* জরায়ুর মুখ খোলা বা বন্ধ থাকতে পারে (ডাক্তার পরীক্ষা করে বুঝবেন)৷
* শীত করে এবং কঁাপিয়ে জ্বর আসতে পারে৷
* রক্ত চাপ কমে যায়৷
* অত্যধিক রক্ত ক্ষরণের কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে৷ রোগী ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে৷

মিস্ড গর্ভপাত

* কয়েকমাস মাসিক (পিরিয়ড) বন্ধ থাকবে৷
* প্রসবদ্বার দিয়ে ভ্রূণ, তার আস্তরণ ও ফুল বেরিয়ে আসবে না৷
* পেটে ব্যথা থাকবে না৷
* জরায়ুর মুখ সাধারণত বন্ধ থাকবে (ডাক্তার পরীক্ষা করে বুঝবেন)৷
* রক্তস্রাব হবে না, সামান্য বাদামি দাগ লাগতে পারে৷

ইনএভিটেবল গর্ভপাত

* কয়েকমাস মাসিক (পিরিয়ড) বন্ধ থাকবে৷
* খুব বেশি পরিমাণে রক্তস্রাব হবে৷
* তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা৷
* প্রসবদ্বার দিয়ে ভ্রুণ, তার আস্তরণ ও ফুল বেরিয়ে আসবে না৷
* জরায়ুর মুখ খোলা থাকবে (ডাক্তার পরীক্ষা করে বুঝবেন)৷

পরামর্শ
* কমপক্ষে একমাস বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত৷
* বাড়ির হালকা কাজকর্ম করা যেতে পারে৷
* একমাস স্বামী-সহবাস করা যাবে না৷
* পরবর্তী বাচ্চা নেওয়ার আগে চিকিত্‌সকের পরামর্শ নিতে হবে৷

প্রতিরোধ

* সন্তান সম্ভাব হলেই চিকিত্‌সককেরকাছে পূর্বের সকল ইতিহাস খুলে বলতে হবে৷
* নিয়মিত চেকআপ জরুরি৷
* সন্তান সম্ভাব হওয়ার প্রথম দিকে রিকশা, বাস, ট্রাম, ট্রেন ইত্যাদির ঝঁাকুনি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত৷
* টিউবয়েল পাম্প করা, পানি ভর্তি ভারী বালতি তোলা, বাচ্চা কোলে নেওয়া ঠিক নয়৷
* ছোঁয়াচে অসুখ থেকে গর্ভবতী মাকে দূরে রাখতে হবে৷
* দোকান বা হোটেলের খাবার না খাওয়াই ভালো৷
* প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে৷ |

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.