Home / সাস্থ্য কথা / সাইক্লিং ভাল ব্যায়াম

সাইক্লিং ভাল ব্যায়াম

সাইকেল অর্থাৎ বাইসাইকেল চালানো হাঁটা এবং সাতার কাটার মত একটি উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। নিয়মিত সাইকেল চালানো শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এতে রক্তের কলেস্টেরলের মাত্রা কমে। রক্তচাপও কমে। সপ্তাহে ৩৫ কিলোমিটারের মত পথ সাইকেল চালালে করোনারি হূদরোগের সম্ভাবনা কমে যায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।

নিয়মিত সাইকেল চালানো শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক। সাইকেল চালালে শরীরের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। ঘন্টায় মোটামুটি ২০ কিমি. গতিতে সাইকেল চালালে প্রতি ঘন্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ ক্যালরি শক্তি খরচ হয়। ২০০৭ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনের এক গবেষণার কথা এটি। এত এনার্জি খরচ হয় বলে নিয়মিত সাইকেল চালালে যারা মোটা তাদের বাড়তি ওজন কমে শরীরের ওজন হয়ে যায় স্বাভাবিক। নিয়মিত সাইকেল চালালে মোটা লোকদের স্বাভাবিক ওজন ফিরে পাবার সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ- এ তথ্য পাওয়া গেছে আর্কাইভস অব পেডিয়েড্রিকস এন্ড এডোলিসেন্ট মেডিসিন নামক জার্নালের ২০০৮ সালের এক সংখ্যায়।

আর যাদের শরীরের ওজন স্বাভাবিক, নিয়মিত সাইকেল চালালে তাদের শরীরের ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট কম। ২০০৮ সালে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন নামক এক জার্নালে অস্ট্রেলিয়ার লোকদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণার ফল এরূপই। দেখা গেছে, যারা তাদের কর্মক্ষেত্রে সাইকেল চালিয়ে যান তাদের মোটা হয়ে যাবার সম্ভাবনা মাত্র ৪০ শতাংশ। পক্ষান্তরে যারা তাদের কর্মস্থলে গাড়িতে চড়ে যান তাদের মোটা হয়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি, প্রায় ৬১ শতাংশ। নিয়মিত সাইকেল চালালে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনাও কমে। রক্তচাপ, কলেষ্টেরল এবং শরীরের ওজন কমালে কিংবা শরীরের ওজন সঠিক রাখলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা কমে। নিয়মিত সাইকেল চালালে পাওয়া যাবে এসব উপকার। মুক্ত বাতাসে সাইকেল চালনায় শ্বাস প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়। ফলে ফুসফুসে বাড়তি অক্সিজেন সরবরাহ হয়। এতে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। শ্বাসনালীর অসুখ প্রতিরোধের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

সাইকেল চালালে রোগ প্রতিরোধী কিছু কোষও তৈরি হয় শরীরে। ফলে সাধারণভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

নিয়মিত সাইকেল চালানো পেশী গঠনে সহায়ক, বিশেষ করে নিন্মাঙ্গের উরু, কাফ ও পিঠের পেশি। এতে উরু, কাফ ও নিতম্ব হয় সুগঠিত। নিয়মিত সাইকেল চালালে জানু সন্ধি এবং পায়ের অন্যান্য সন্ধি সবল হয়। আর্থাইটিস হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

সাইকেল চালানোর সময় শরীর ঘামে বেশ। ঘামের সাথে শরীরের বর্জ বের হয়ে যায়। ত্বক ও শরীর থাকে সুস্থ। সাইকেল চালালে রক্তে নিঃসরণ হয় ভাল লাগার হরমোন এন্ডোরফিন। তাই মুক্ত বাতাসে সাইকেল চালালে মনে প্রশান্তি আসে, মন ভাল লাগে। এন্ডোরফিন স্ট্রেসও কমায়। শিশু সাইকেল চালালে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সাইকেল চালানো তাই শিশুর সার্বিক বিকাশে সহায়ক। সাইকেল চালানোয় এতসব উপকার যেখানে, সেখানে নিয়মিত সাইকেল চালানোর অভ্যাস গড়ে তোলা মন্দ নয় মোটেও- সেটা অফিসে যাওয়ার জন্যই হোক, বাজারে যাবার জন্যই হোক, অন্য কোন প্রয়োজনে হোক কিংবা শুধু ব্যায়ামের জন্যই হোক।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.